শ্রীকৃষ্ণদ্বৈপায়ন ব্যাস কৃত শ্রীমদ্ভাগবত এর গুরুত্বপূর্ণ শ্লোক ও তাৎপর্য ।

কৃষ্ণকৃপাশ্রীমূর্তি শ্রীল অভয়চরণারবিন্দ ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদ কর্তৃক মূল সংস্কৃত শ্লোক, অনুবাদ এবং বিশদ তাৎপর্যসহ ইংরেজি SRIMAD BHAGAVATAM গ্রন্থের বাংলা অনুবাদ

  • শ্রীমদ্ভাগবত ১ম স্কন্ধ, অধ্যায়-১, ( ঋষিদের প্রশ্ন )

    শ্লোক: ৫
    ত একদা তু মুনয়ঃ প্রাতর্হুতহুতাগ্নয়ঃ ।
    সংস্কৃতং সূতমাসীনং পপ্রচ্ছুরিদমাদরাত্ ॥ ৫ ॥

    ত – ঋষিরা ; একদা – একদিন ; তু – কিন্তু; মুনয়ঃ– মুনিরা; প্রাতঃ — প্রাতঃকালে ; হুত – আহুতি দিয়ে ; হুত-অগ্নয়ঃ – হুতাগ্নি; সৎকৃতম— যথার্থ শ্রদ্ধা সহকারে; সূতম্ –সূত গোস্বামীকে; আসীনম্ — উপবিষ্ট; পপ্রচ্ছঃ —– জিজ্ঞাসা করলেন ; ইদম্ — এই বিষয়ে; আদরাৎ - আদরের সঙ্গে ।
  • অনুবাদ : একদিন প্রাতঃকালে সেই শৌনকাদি ঋষিরা হুতাগ্নিতে আহুতি প্রদান করে সমাদৃত আসনে উপবিষ্ট শ্রীল সূত গোস্বামীকে শ্রদ্ধার সঙ্গে এই প্রশ্নগুলি জিজ্ঞাসা করেছিলেন ।
  • তাৎপর্যঃ- প্রাতঃকাল হচ্ছে পারমার্থিক কার্যকলাপ অনুষ্ঠানের সর্বশ্রেষ্ঠ সময় । মহর্ষিরা শ্রীমদ্ভাগবতের বক্তাকে শ্রদ্ধা সহকারে ব্যাসাসন নামক উচ্চ - আসন প্রদান করেছিলেন । শ্রীল ব্যাসদেব হচ্ছেন সমস্ত মানুষের আদি গুরু । অন্য সমস্ত গুরুদেব তাঁর প্রতিনিধি বলে গণ্য করা হয় । যথার্থ প্রতিনিধি হচ্ছেন তিনি , যিনি যথাযথভাবে ব্যাসদেবের দৃষ্টিভঙ্গি প্রদান করতে পারেন । শ্রীল ব্যাসদেব শ্রীমদ্ভাগবতের বাণী শ্রীল শুরুদেব গোস্বামীকে দান করেছিলেন এবং শ্রীল সূত গোস্বামী তা শ্রবণ করেছিলেন । শ্রীল শুকদেব গোস্বামীর কাছ থেকে । গুরু পরম্পরার ধারায় ব্যাসদেবের সমস্ত আদর্শ প্রতিনিধিরা হচ্ছেন গোস্বামী । এই সমস্ত গোস্বামীরা সর্বতোভাবে তাদের ইন্দ্রিয়গুলি সংযত করে পূর্ববর্তী আচার্যদের প্রদর্শিত পথ অনুসরণ করেন । গোস্বামীরা তাদের খেয়াল - খুশিমত ভাগবতের অর্থ বা কদর্থ করে বক্তৃতা দেন না । পক্ষান্তরে , তারা অত্যন্ত সাবধানতার সঙ্গে পূর্ববর্তী যে - সমস্ত আচার্যরা অবিকৃতভাবে এই পারমার্থিক জ্ঞান প্রদান করে গেছেন , তাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে তাদের কার্য সম্পাদন করেন । ভাগবতের শ্রোতারা স্পষ্টভাবে তার অর্থ হৃদয়ঙ্গম করার জন্য বক্তার কাছে প্রশ্ন করতে পারেন , তবে তা কখনই উদ্ধত মনোভাব নিয়ে করা উচিত নয় । ভাগবতের বক্তা এবং সেই বিষয়ের প্রতি গভীর শ্রদ্ধাশীল হয়ে বিনীতভাবে প্রশ্ন করা কর্তব্য । সেই পন্থা ভগবদ্গীতাতেও নির্দেশিত হয়েছে । যথার্থ তত্ত্বদ্রষ্টার কাছে বিনীতভাবে শ্রবণ করার মাধ্যমে এই অপ্রাকৃত জ্ঞান লাভ করতে হয় । তাই নৈমিষারণ্যের ঋষিরা গভীর শ্রদ্ধা সহকারে বক্তা শ্রীল সূত গোস্বামীকে সম্বোধন করেছিলেন ।

    পূরবর্তী শ্লোক দেখুন অথবা পরবর্তী শ্লোক
  • * * * Anupamasite-এ আপনাকে স্বাগতম। আপনার পছন্দমত যে কোন ধরনের লেখা পোস্ট করতে এখানে ক্লিক করুন।   আপনাদের পোস্ট করা লেখাগুলো এই লিংকে আছে, দেখতে এখানে ক্লিক করুন। ধন্যবাদ * * *

    জ্ঞানই শক্তি ! তাই- আগে নিজে জানুন , শেয়ার করে প্রচারের মাধ্যমে অন্যকেও জানতে সাহায্য করুন।