শ্রীকৃষ্ণদ্বৈপায়ন ব্যাস কৃত শ্রীমদ্ভাগবত এর গুরুত্বপূর্ণ শ্লোক ও তাৎপর্য ।

কৃষ্ণকৃপাশ্রীমূর্তি শ্রীল অভয়চরণারবিন্দ ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদ কর্তৃক মূল সংস্কৃত শ্লোক, অনুবাদ এবং বিশদ তাৎপর্যসহ ইংরেজি SRIMAD BHAGAVATAM গ্রন্থের বাংলা অনুবাদ

  • শ্রীমদ্ভাগবত ২য় স্কন্ধ, অধ্যায়-১, ( ভগবদ- উপলব্ধির প্রথম স্তর )

    শ্লোক: ৫:
    তস্মাদ্ভারত সর্বাত্মা ভগবানীশ্বরো হরিঃ ৷
    শ্রোতব্যঃ কীর্তিতব্যশ্চ স্মর্তব্যশ্চেচ্ছতাভয়ম্ ॥৫ ॥

  • অনুবাদ : হে ভারত , সমস্ত দুঃখ - দুর্দশা থেকে যে মুক্ত হওয়ার বাসনা করে তাকে অবশ্যই পরমাত্মা , পরম নিয়স্তা এবং সমস্ত দুঃখ হরণকারী পরমেশ্বর ভগবানের কথা শ্রবণ , কীর্তন এবং স্মরণ করতে হবে ।
  • তাৎপর্যঃ- পূর্ববর্তী শ্লোকে শ্রীল শুকদেব গোস্বামী বর্ণনা করেছেন কিভাবে মূর্খ ও জড় বিষয়াসক্ত মানুষেরা নিদ্রা , রতিক্রিয়া , অর্থনৈতিক উন্নতি সাধন এবং বিস্মৃতির গর্ভে নিমজ্জমান আত্মীয় - স্বজনদের প্রতিপালনের চেষ্টায় তাদের দুর্লভ সময় নষ্ট করছে । সমস্ত জড় কার্যকলাপে লিপ্ত হয়ে জীব কর্মের বন্ধনে আবদ্ধ হচ্ছে । তার ফলে জলচর , উদ্ভিদ , সরীসৃপ , পক্ষী , পশু , অসভ্য এবং সভ্য মানুষ আদি ৮৪,০০,০০০ বিভিন্ন যোনি সমন্বিত জন্ম - মৃত্যুর শৃঙ্খলে আবদ্ধ হচ্ছে । অবশেষে মনুষ্য জীবন লাভ করে সে এই কর্ম বন্ধন থেকে মুক্ত হওয়ার একটি সুযোগ পায় । তাই কেউ যদি এই ভয়ঙ্কর বন্ধন থেকে মুক্তিলাভের বাসনা করে , তা হলে তাকে তার সৎ অথবা অসৎ উভয় কর্মেরই ভোগ - বাসনা পরিত্যাগ করতে হবে । নিজের স্বার্থে সৎ অথবা অসৎ কোন কর্মই করা উচিত নয় , পক্ষান্তরে সবকিছুর অধীশ্বর পরমেশ্বর ভগবানের উদ্দেশ্যেই সব কিছু সম্পাদন করা উচিত । এভাবে কর্ম করার নির্দেশ শ্রীমদ্ভগবদ্গীতায় ( ৯/২৭ ) দেওয়া হয়েছে । সেখানে বলা হয়েছে , সব কিছুই যেন পরমেশ্বর ভগবানের জন্য করা হয় । প্রথমে পরমেশ্বর ভগবানের কথা শ্রবণ করতে হয় । যথাযথভাবে মনোনিবেশ সহকারে ভগবানের কথা শ্রবণের পর ভগবানের কার্যকলাপ এবং মহিমা কীর্তন করা উচিত , এবং তা করার ফলে ভগবানের চিন্ময় স্বরূপ নিরস্তরভাবে স্মরণ করা সম্ভব হয় । ভগবানের মহিমা শ্রবণ ভগবানের চিন্ময় প্রকৃতি থেকে অভিন্ন , এবং তার ফলে সর্বক্ষণ ভগবানের সান্নিধ্য লাভ করা যায় । তার ফলে সমস্ত ভয় থেকে মুক্তি লাভ করা যায় । পরমাত্মারূপে ভগবান প্রতিটি জীবের হৃদয়ে বিরাজমান , এবং এইভাবে শ্রবণ এবং কীর্তনের মাধ্যমে ভগবান সমস্ত জীবকে তার সান্নিধ্য লাভের সুযোগ দিয়েছেন । ভগবানের মহিমা শ্রবণ এবং কীর্তনের এই পন্থা সকলেরই পক্ষে গ্রহণীয় , এবং তা যে কোন অবস্থায় যে কোন কার্যে লিপ্ত মানুষকে তার জীবনের চরম সফলতা প্রদান করবে । বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষ রয়েছে -- সকাম কর্মী , জ্ঞানী , যোগী এবং শুদ্ধ ভক্ত । ঈপ্সিত সাফল্য লাভের জন্য তারা সকলেই এই শ্রবণ - কীর্তনের পন্থা অবলম্বন করতে পারে । সকলেই চায় সব রকম ভয় থেকে মুক্ত হতে এবং সর্বতোভাবে আনন্দময় জীবন লাভ করতে । এইখানে এখন তা লাভ করার সর্বাঙ্গসুন্দর পন্থা শ্রীমদ্ভাগবতে শ্রীল শুকদেব গোস্বামীর মতো মহাজনের শ্রীমুখে নির্দেশিত হয়েছে । ভগবানের মহিমা শ্রবণ এবং কীর্তনের ফলে মানুষের সমস্ত কার্যকলাপ চিন্ময়ত্ব লাভ করে , এবং তার ফলে জড় জগতের সমস্ত দুঃখ - দুর্দশা সম্পূর্ণরূপে নিবৃত্ত হয় ।

    পূরবর্তী শ্লোক দেখুন অথবা পরবর্তী শ্লোক
  • * * * Anupamasite-এ আপনাকে স্বাগতম। আপনার পছন্দমত যে কোন ধরনের লেখা পোস্ট করতে এখানে ক্লিক করুন।   আপনাদের পোস্ট করা লেখাগুলো এই লিংকে আছে, দেখতে এখানে ক্লিক করুন। ধন্যবাদ * * *

    জ্ঞানই শক্তি ! তাই- আগে নিজে জানুন , শেয়ার করে প্রচারের মাধ্যমে অন্যকেও জানতে সাহায্য করুন।