শ্রীকৃষ্ণদ্বৈপায়ন ব্যাস কৃত শ্রীমদ্ভাগবত এর গুরুত্বপূর্ণ শ্লোক ও তাৎপর্য ।

কৃষ্ণকৃপাশ্রীমূর্তি শ্রীল অভয়চরণারবিন্দ ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদ কর্তৃক মূল সংস্কৃত শ্লোক, অনুবাদ এবং বিশদ তাৎপর্যসহ ইংরেজি SRIMAD BHAGAVATAM গ্রন্থের বাংলা অনুবাদ

  • শ্রীমদ্ভাগবত ২য় স্কন্ধ, অধ্যায়-২, (হৃদয়াভ্যন্তরস্থ ভগবান )

    শ্লোক: ১৩
    একৈকশোহঙ্গানি ধিয়ানুভাবয়েৎ
    পাদাদি যাবদ্ধসিতং গদাভৃতঃ ।
    জিতং জিতং স্থানমপোহ্য ধারয়েৎ
    পরং পরং শুদ্ধ্যতি ধীর্যথা যথা ৷৷ ১৩ ৷৷

  • অনুবাদ : ভগবানের শ্রীপাদপদ্ম থেকে শুরু করে তাঁর হাস্যোজ্জ্বল মুখমণ্ডলের ধ্যান করা উচিত । প্রথমে তার শ্রীপাদপদ্মে মনকে স্থির করা উচিত , তারপর গুল্ফ , তারপর জঙ্ঘা এবং এইভাবে উচ্চ থেকে উচ্চতর অঙ্গের ধ্যান করা উচিত । চিত্ত যত শুদ্ধ হবে , ধ্যান ততই গভীরতা লাভ করবে ।
  • তাৎপর্যঃ- শ্রীমদ্ভাগবতে যে ধ্যানের পন্থা বর্ণিত হয়েছে তা নিরাকার বা শূন্যে মনকে স্থির করার পন্থা নয় । প্রকৃতপক্ষে , শাস্ত্রের বর্ণনা অনুসারে ধ্যান করতে হয় পরমেশ্বর ভগবানের বিরাট রূপের অথবা তার সচ্চিদানন্দ বিগ্রহের চিন্তায় মনকে একাগ্র করার মাধ্যমে । বিষ্ণুরূপের প্রামাণিক বর্ণনা রয়েছে , এবং মন্দিরে তার অর্চা - বিগ্রহের প্রামাণিক স্বরূপ রয়েছে । এইভাবে মনকে ভগবানের পাদপদ্মের চিন্তায় একাগ্র করে , এবং ধীরে ধীরে উচ্চ থেকে উচ্চতর অঙ্গে উন্নীত করে অবশেষে তার হাস্যোজ্জ্বল মুখমণ্ডলে চিত্তকে একাগ্র করা কর্তব্য ।

       ভাগবত - সম্প্রদায়ের সিদ্ধান্ত অনুসারে ভগবানের রাস - নৃত্য হচ্ছে তাঁর হাস্যোজ্জ্বল মুখমণ্ডল । যেহেতু এই শ্লোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে , ভগবানের শ্রীপাদপদ্ম থেকে । শুরু করে ধীরে ধীরে তাঁর হাস্যোজ্জ্বল মুখমণ্ডলের ধ্যান করা উচিত , তাই এক লাফে ভগবানের রাসলীলা বুঝতে যাওয়ার চেষ্টা করা উচিত নয় । ভগবানের শ্রীপাদপদ্মে ফুল । ও তুলসী নিবেদন করার মাধ্যমে চিত্তকে একাগ্র করার চেষ্টা করাই শ্রেয় । এইভাবে অর্চনের দ্বারা আমরা ধীরে ধীরে পবিত্র হতে পারব । ভগবানকে স্নান করানো , সাজানো ইত্যাদি অপ্রাকৃত কার্যকলাপ আমাদের জীবনকে পবিত্র করতে সাহায্য করে । আমরা যখন চিত্ত - শুদ্ধির উচ্চতর স্তরে উন্নীত হই এবং ভগবানের হাস্যোজ্জ্বল মুখমণ্ডল দর্শন করতে পারি বা ভগবানের রাসলীলা শ্রবণ করতে পারি , তখন আমরা যথাযথভাবে তাঁর অপ্রাকৃত কার্যকলাপের রস আস্বাদন করতে পারি । তাই শ্রীমদ্ভাগবতে তাঁর রাসলীলার বর্ণনা দশম স্কন্ধে ( ২৯-৩৪ অধ্যায় ) বর্ণনা করা হয়েছে ।

       ভগবানের দিব্যরূপে চিত্তকে যতই একাগ্র করা যায় , তা শ্রীপাদপদ্মেই হোক , গুলফতে হোক , জঙ্ঘাতে হোক অথবা বক্ষে হোক , ততই পবিত্র হওয়া যায় । এই শ্লোকে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে , “ বুদ্ধি যত পবিত্র হয় , ” অর্থাৎ ইন্দ্ৰিয় - সুখভোগের বাসনা থেকে যত অনাসক্ত হওয়া যায় । বর্তমানে বদ্ধ অবস্থায় ইন্দ্রিয় তৃপ্তির প্রতি আসক্ত হওয়ার ফলে আমাদের বুদ্ধি অশুদ্ধ । ভগবানের অপ্রাকৃত রূপের ধ্যানের ফল প্রকাশ পায় ইন্দ্রিয় তৃপ্তির প্রতি আমাদের অনাসক্তির মাধ্যমে । তাই ধ্যানের চরম উদ্দেশ্য হচ্ছে বুদ্ধির বিশুদ্ধিকরণ ।

       যারা ইন্দ্রিয় তৃপ্তিতে অত্যন্ত মগ্ন , তাদের অর্চনা করতে দেওয়া উচিত নয় অথবা শ্রীশ্রীরাধাকৃষ্ণের বা শ্রীবিষ্ণুর বিগ্রহগণকে স্পর্শ করতে দেওয়া উচিত নয় । তাদের পক্ষে ভগবানের বিরাট রূপের ধ্যান করাই শ্রেয় , যা পরবর্তী শ্লোকে বলা হয়েছে । নির্বিশেষবাদী এবং শূন্যবাদীদের তাই ভগবানের বিরাটরূপের ধ্যান করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে , কিন্তু ভক্তদের শ্রীমন্দিরে ভগবানের শ্রীবিগ্রহের ধ্যান করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে । যেহেতু নির্বিশেষবাদী এবং শূন্যবাদীরা তাদের পারমার্থিক কার্যকলাপে পর্যাপ্তরূপে শুদ্ধ হননি , তাই অর্চনার পন্থা তাদের জন্য অনুমোদিত হয়নি ।

    পূরবর্তী শ্লোক দেখুন অথবা পরবর্তী শ্লোক
  • * * * Anupamasite-এ আপনাকে স্বাগতম। আপনার পছন্দমত যে কোন ধরনের লেখা পোস্ট করতে এখানে ক্লিক করুন।   আপনাদের পোস্ট করা লেখাগুলো এই লিংকে আছে, দেখতে এখানে ক্লিক করুন। ধন্যবাদ * * *

    জ্ঞানই শক্তি ! তাই- আগে নিজে জানুন , শেয়ার করে প্রচারের মাধ্যমে অন্যকেও জানতে সাহায্য করুন।