শ্রীকৃষ্ণদ্বৈপায়ন ব্যাস কৃত শ্রীমদ্ভাগবত এর গুরুত্বপূর্ণ শ্লোক ও তাৎপর্য ।

কৃষ্ণকৃপাশ্রীমূর্তি শ্রীল অভয়চরণারবিন্দ ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদ কর্তৃক মূল সংস্কৃত শ্লোক, অনুবাদ এবং বিশদ তাৎপর্যসহ ইংরেজি SRIMAD BHAGAVATAM গ্রন্থের বাংলা অনুবাদ

  • শ্রীমদ্ভাগবত ২য় স্কন্ধ, অধ্যায়-২, (হৃদয়াভ্যন্তরস্থ ভগবান )

    শ্লোক: ২৮
    ততো বিশেষং প্রতিপদ্য নির্ভয়—
    স্তেনাত্মনাপোঽনলমূর্তিরত্বরণ্ ।
    জ্যোতির্ময়ো বায়ুমুপেত্য কালে
    বায়্ বাত্মনা খং বৃহদাত্মলিঙ্গম্ ॥ ২৮ ৷৷

  • অনুবাদ : সত্যলোক প্রাপ্ত হওয়ার পর ভক্ত নির্ভীকভাবে বাহ্যত স্থূলদেহসদৃশ একটি সূক্ষ্ম দেহে প্রবেশ করেন এবং ক্রমান্বয়ে মৃত্তিকাত্ব থেকে জলমূর্তি প্রাপ্ত হন এবং তারপর জ্যোতির্ময় মূর্তি এবং বায়বীয় মূর্তি প্রাপ্ত হন , এবং অবশেষে আকাশ রূপ প্রাপ্ত হন ।
  • তাৎপর্যঃ- পারমার্থিক সিদ্ধিলাভের প্রভাবে যিনি ব্রহ্মলোক বা সত্যলোক প্রাপ্ত হন , তিনি তিন প্রকার সিদ্ধিলাভ করেন । যিনি পুণ্য কর্মের প্রভাবে উচ্চতর লোকে উন্নীত হন , তিনি ঠার পুণ্যের মাত্রা অনুসারে সেই গ্রহলোক প্রাপ্ত হন । যিনি ভগবানের বিরাটরূপ বা হিরণ্যগর্ভের আরাধনার ফলে ব্রহ্মলোক প্রাপ্ত হন , তিনি ব্রহ্মার মুক্তির সময় মুক্ত হন । কিন্তু যিনি ভগবস্তুক্তির প্রভাবে ঊর্ধ্বলোকে গমন করেন , যে কথা এখানে বিশেষ ভাবে উল্লেখ করা হয়েছে , তিনি ব্রহ্মাণ্ডের বিভিন্ন আবরণগুলি অতিক্রম করে পরমধামে তার প্রকৃত চিন্ময় স্বরূপ প্রাপ্ত হন ।

        শ্রীল জীব গোস্বামীর মতে , সমস্ত ব্রহ্মাণ্ডগুলি একত্রে গুচ্ছিভূতভাবে রয়েছে , এবং তাদের প্রতিটি সপ্ত আবরণের দ্বারা আচ্ছাদিত । সেই সপ্ত আবরণের বহির্ভাগে রয়েছে জল , এবং প্রতিটি আবরণ পূর্ববর্তী আবরণটি থেকে দশগুণ প্রসারিত । পরমেশ্বর ভগবান যিনি তার নিশ্বাসের দ্বারা এই সমস্ত ব্রহ্মাণ্ডগুলির সৃষ্টি করেন তিনি গুচ্ছিভূত ব্রহ্মাণ্ডের ঊর্ধ্বে শায়িত অবস্থায় আছেন । কারণ সমুদ্রের জল ব্রহ্মাণ্ডের আবরণের জল থেকে ভিন্ন । ব্রহ্মাণ্ডের আবরণ রূপ যে জল তা জড় , কিন্তু কারণ সমুদ্রের জল চিন্ময় । এখানে যে জলীয় আবরণের কথা বলা হয়েছে তা সমস্ত জীবের অহঙ্কারের আবরণ বলে বিবেচনা করা হয় , এবং একে একে জড় আবরণ থেকে ক্রম - মুক্তির যে উল্লেখ এখানে করা হয়েছে তা স্কুল জড়দেহের অহঙ্কার থেকে মুক্তি এবং তারপর সূক্ষ্ম শরীরের অনুভূতি এবং অবশেষে ভগবদ্ধামে শুদ্ধ চিন্ময় স্বরূপ প্রাপ্তি ।

        শ্রীল ধর স্বামী বলেছেন যে , জড়া প্রকৃতির একটি অংশ ভগবান কর্তৃক প্রভাবিত হয়ে মহত্তত্ত্ব নামে পরিচিত হয় । মহত্তত্বের একটি অংশ হচ্ছে অহঙ্কার । অহঙ্কারের একটি অংশ শব্দ , এবং শব্দের একটি অংশ বায়ু । বায়ুর একটি অংশ পর্যবসিত হয় রূপে এবং রূপ থেকে তড়িৎ শক্তি বা তাপের উদ্ভব হয় । তাপ থেকে পৃথিবীর গন্ধ এবং এই গন্ধ থেকে স্থূল পৃথিবীর প্রকাশ হয় , এবং এই সমস্তই একত্রে সৃষ্টি তত্ত্ব । সৃষ্টির ব্যাস চারশ কোটি মাইল । তারপর ব্রহ্মাণ্ডের আবরণ শুরু হয় । প্রথম আবরণটি আটকোটি মাইল , এবং তার পরবর্তী আবরণগুলি যথাক্রমে , জল , আগুন , বায়ু এবং আকাশ পূর্ববর্তী আবরণগুলি থেকে দশগুণ অধিক প্রসারিত ভগবানের নির্ভীক ভক্ত সেই সমস্ত আবরণগুলি অতিক্রম করে অবশেষে পরম স্তর প্রাপ্ত হন যেখানে সব কিছুই চিন্ময় । তারপর ভক্ত বৈকুণ্ঠলোকে প্রবেশ করে ভগবানের মতো রূপ প্রাপ্ত হয়ে তার প্রেমময়ী সেবায় যুক্ত হন । সেইটিই হচ্ছে ভগবদ্ভক্তির চরম সিদ্ধি । সিদ্ধ যোগীর পক্ষে তার ঊর্ধ্বে আর কোন কামনা অথবা প্রাপ্য নেই ।

    পূরবর্তী শ্লোক দেখুন অথবা পরবর্তী শ্লোক
  • * * * Anupamasite-এ আপনাকে স্বাগতম। আপনার পছন্দমত যে কোন ধরনের লেখা পোস্ট করতে এখানে ক্লিক করুন।   আপনাদের পোস্ট করা লেখাগুলো এই লিংকে আছে, দেখতে এখানে ক্লিক করুন। ধন্যবাদ * * *

    জ্ঞানই শক্তি ! তাই- আগে নিজে জানুন , শেয়ার করে প্রচারের মাধ্যমে অন্যকেও জানতে সাহায্য করুন।