শ্রীকৃষ্ণদ্বৈপায়ন ব্যাস কৃত শ্রীমদ্ভাগবত এর গুরুত্বপূর্ণ শ্লোক ও তাৎপর্য ।

কৃষ্ণকৃপাশ্রীমূর্তি শ্রীল অভয়চরণারবিন্দ ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদ কর্তৃক মূল সংস্কৃত শ্লোক, অনুবাদ এবং বিশদ তাৎপর্যসহ ইংরেজি SRIMAD BHAGAVATAM গ্রন্থের বাংলা অনুবাদ

  • শ্রীমদ্ভাগবত ২য় স্কন্ধ, অধ্যায়-২, (হৃদয়াভ্যন্তরস্থ ভগবান )

    শ্লোক: ৩২
    এতে সৃতী তে নৃপ বেদগীতে
    ত্বয়াভিপৃষ্টে চ সনাতনে চ ৷
    যে বৈ পুরা ব্রহ্মণ আহতুষ্ট
    আরাধিতো ভগবান্ বাসুদেবঃ ৷৷ ৩২ ৷৷

  • অনুবাদ : হে রাজন্ , আপনার প্রশ্নের উত্তরে আমি যা বললাম তা বেদের বর্ণনা বলে জানবেন এবং তা নিত্য সত্য । ব্রহ্মার আরাধনায় তুষ্ট হয়ে পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণ স্বয়ং তাঁকে তা বলেছিলেন।
  • তাৎপর্যঃ- জড় জগতের বন্ধন থেকে মুক্ত হয়ে চিজ্জগতে ফিরে যাওয়ার দু'টি পন্থা রয়েছে , যথা সদ্য মুক্তি বা সরাসরিভাবে ভগবদ্ধামে ফিরে যাওয়া এবং অন্যটি হচ্ছে ক্রম - মুক্তি বা ধীরে ধীরে ব্রহ্মাণ্ডের উচ্চ থেকে উচ্চতর লোক প্রাপ্ত হয়ে অবশেষে ভগবদ্ধাম প্রাপ্ত হওয়া । এই পন্থা দু'টি বেদে বর্ণিত হয়েছে । সে সম্বন্ধে বেদে বলা হয়েছে , যদা সর্বে প্রমুচ্যন্তে কামা যে অস্য হৃদি শ্রিতাঃ / অথ মর্তোঽমৃতো ভগবত্যত্র ব্রহ্মা সমগ্নতে ( বৃহদারণ্যক উপনিষদ ৪/৪/৭ ) এবং তেহচিরভিসম্ভবাস্তি ( বৃহদারণ্যক উপনিষদ ৬/২/১৫ ) – “ যারা হৃদয়ের রোগরূপী সমস্ত জড় বাসনা থেকে মুক্ত হয়েছেন , তারা মৃত্যুকে জয় করে ভগবদ্ধামে প্রবেশ করেন , তাকে বলা হয় সদ্য মুক্তি । আর যারা অচিঁআদি মার্গে ধীরে ধীরে উচ্চ থেকে উচ্চতর লোক অতিক্রম করে অবশেষে ভগবদ্ধাম প্রাপ্ত হন , তাকে বলা হয় ক্রম - মুক্তি । ” বেদের এই সমস্ত বর্ণনা শ্রীমদ্ভাগবতের বর্ণনার অনুরূপ , এবং শুকদেব গোস্বামী এ বিষয়ে প্রতিপন্ন করে বলেছেন যে এই জ্ঞান পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণ , বাসুদেব সর্বপ্রথম বেদবিদ্ ব্রহ্মার কাছে প্রকাশ করেছিলেন । বৈদিক জ্ঞানের পরম্পরা হচ্ছে এইরকম : – শ্রীকৃষ্ণ ব্রহ্মাকে তা দান করেছিলেন , ব্রহ্মা তা নারদকে দান করেছিলেন , নারদ ব্যাসদেবকে এবং ব্যাসদেবের কাছ থেকে শ্রীল শুকদেব গোস্বামী তা প্রাপ্ত হয়েছিলেন । এইভাবে গুরু - শিষ্যের পরম্পরার ধারা প্রবাহিত হচ্ছে । সুতরাং এই সমস্ত মহাজনদের বর্ণনায় কোন পার্থক্য নেই । তাদের পরস্পরের মধ্যে কোন মতভেদ নেই । সত্য নিত্য , এবং সত্য সম্বন্ধে তাই নতুন কোন মতবাদ সৃষ্টি হতে পারে না । বেদের জ্ঞান লাভ করার এটিই হচ্ছে পন্থা । পাণ্ডিত্যের দ্বারা অথবা মনগড়া মতবাদ সৃষ্টি করার মাধ্যমে এই জ্ঞান হৃদয়ঙ্গম করা যায় না । বৈদিক জ্ঞানে যোগ করার কিছু নেই এবং তার থেকে বিয়োগ করারও কিছু নেই , কেননা সত্য সর্বদাই সত্য । সেই সত্যকে জানতে হলে তত্ত্ববেত্তা পুরুষের আনুগত্য স্বীকার করতে হয় । আধুনিক বৈজ্ঞানিকেরা কোন বৈজ্ঞানিক সত্যের ব্যাপারে জনসাধারণের কাছে তত্ত্ববেত্তা । সাধারণ মানুষ বৈজ্ঞানিকদের মতবাদ অনুসরণ করে । তার অর্থ হচ্ছে যে সাধারণ মানুষ কর্তৃত্ব স্বীকার করে । বৈদিক জ্ঞানও এইভাবে আহরণ করতে হয় । আকাশ অথবা ব্রহ্মাণ্ডের ঊর্ধ্বে কি রয়েছে তা নিয়ে সাধারণ মানুষ তর্ক করতে পারে , কিন্তু তাকে বেদের উক্তি অবশ্যই স্বীকার করতে হবে । যেহেতু তা প্রামাণিক গুরু - শিষ্য পরম্পরায় উপলব্ধ হয়েছে । শ্রীমদ্ভগবদ্গীতাতেও চতুর্থ অধ্যায়ে গীতার তত্ত্ব হৃদয়ঙ্গম করার ব্যাপারে সেই পন্থারই বর্ণনা করা হয়েছে । কেউ যদি আচার্যদের কর্তৃত্ব স্বীকার না করে , তা হলে বেদে যে সত্যের উল্লেখ করা হয়েছে , সে সম্বন্ধে তার অনুসন্ধান ও সমস্ত প্রচেষ্টা ব্যর্থ হবে ।

    পূরবর্তী শ্লোক দেখুন অথবা পরবর্তী শ্লোক
  • * * * Anupamasite-এ আপনাকে স্বাগতম। আপনার পছন্দমত যে কোন ধরনের লেখা পোস্ট করতে এখানে ক্লিক করুন।   আপনাদের পোস্ট করা লেখাগুলো এই লিংকে আছে, দেখতে এখানে ক্লিক করুন। ধন্যবাদ * * *

    জ্ঞানই শক্তি ! তাই- আগে নিজে জানুন , শেয়ার করে প্রচারের মাধ্যমে অন্যকেও জানতে সাহায্য করুন।