শ্রীকৃষ্ণদ্বৈপায়ন ব্যাস কৃত শ্রীমদ্ভাগবত এর গুরুত্বপূর্ণ শ্লোক ও তাৎপর্য ।

কৃষ্ণকৃপাশ্রীমূর্তি শ্রীল অভয়চরণারবিন্দ ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদ কর্তৃক মূল সংস্কৃত শ্লোক, অনুবাদ এবং বিশদ তাৎপর্যসহ ইংরেজি SRIMAD BHAGAVATAM গ্রন্থের বাংলা অনুবাদ

  • শ্রীমদ্ভাগবত ২য় স্কন্ধ, অধ্যায়-২, (হৃদয়াভ্যন্তরস্থ ভগবান )

    শ্লোক: ৩৪
    ভগবান্ ব্রহ্মা কার্ৎস্ন্যেন ত্রিরন্ধীক্ষ্য মণীষয়া ৷
    তদধ্যবসাৎ কূটস্থো রতিরাত্মন্ যতো ভবেৎ ॥ ৩৪ ৷৷

  • অনুবাদ : মহাত্মা ব্রহ্মা , গভীর মনোনিবেশ সহকারে একাগ্রচিত্তে তিনবার বেদ অধ্যয়ন করেছিলেন , এবং তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিচার করে স্থির করেছিলেন যে পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের প্রতি আকর্ষণই হচ্ছে ধর্মানুষ্ঠানের পরম পূর্ণতা ।
  • তাৎপর্যঃ- শ্রীল শুকদেব গোস্বামী এখানে সর্বশ্রেষ্ঠ বেদবিদ মহাত্মা ব্রহ্মার উল্লেখ করেছেন , যিনি হচ্ছেন ভগবানের গুণাবতার। জড় সৃষ্টির শুরুতে ব্রহ্মাজী বেদের শিক্ষা লাভ করেছিলেন । ব্রহ্মা যদিও সরাসরিভাবে পরমেশ্বর ভগবানের কাছ থেকে বৈদিক নির্দেশ প্রাপ্ত হয়েছিলেন , তথাপি বেদের সমস্ত ভবিষ্যৎ পাঠকের অনুসন্ধিৎসা নিরসন করার জন্য একজন সাধারণ ছাত্রের মতো তিনি তিনবার বেদ অধ্যয়ন করেছিলেন , যা সাধারণত শিক্ষার্থীরা করে থাকেন । তিনি গভীর মনোনিবেশ সহকারে , একাগ্রচিত্তে বেদের উদ্দেশ্য সম্বন্ধে অধ্যয়ন করেছিলেন এবং পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তা বিচার করে স্থির করেছিলেন যে পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের ঐকান্তিক ভক্ত হওয়াই সমস্ত ধর্মানুশীলনের পরম সিদ্ধি । শ্রীমদ্ভগবদ্গীতাতেও পরমেশ্বর ভগবান চরমে সেই উপদেশই দিয়েছেন । সমস্ত আচার্যেরাও এইভাবে বেদের সিদ্ধান্ত স্বীকার করেছেন , এবং যারা সেই সিদ্ধান্তের বিরোধী , তাদের শ্রীমদ্ভগবদ্গীতায় ( ২/৪২ ) বেদবাদরত বলে নিন্দা করা হয়েছে ।

    পূরবর্তী শ্লোক দেখুন অথবা পরবর্তী শ্লোক
  • * * * Anupamasite-এ আপনাকে স্বাগতম। আপনার পছন্দমত যে কোন ধরনের লেখা পোস্ট করতে এখানে ক্লিক করুন।   আপনাদের পোস্ট করা লেখাগুলো এই লিংকে আছে, দেখতে এখানে ক্লিক করুন। ধন্যবাদ * * *

    জ্ঞানই শক্তি ! তাই- আগে নিজে জানুন , শেয়ার করে প্রচারের মাধ্যমে অন্যকেও জানতে সাহায্য করুন।