শ্রীকৃষ্ণদ্বৈপায়ন ব্যাস কৃত শ্রীমদ্ভাগবত এর গুরুত্বপূর্ণ শ্লোক ও তাৎপর্য ।

কৃষ্ণকৃপাশ্রীমূর্তি শ্রীল অভয়চরণারবিন্দ ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদ কর্তৃক মূল সংস্কৃত শ্লোক, অনুবাদ এবং বিশদ তাৎপর্যসহ ইংরেজি SRIMAD BHAGAVATAM গ্রন্থের বাংলা অনুবাদ

  • শ্রীমদ্ভাগবত ২য় স্কন্ধ, অধ্যায়-২, (হৃদয়াভ্যন্তরস্থ ভগবান )

    শ্লোক: ৩৬
    তস্মাৎ সর্বাত্মনা রাজন্ হরিঃ সর্বত্র সর্বদা । শ্ৰোতব্যঃ কীর্তিতব্যশ্চ স্মর্তব্যো ভগবান্নৃণাম ৷৷ ৩৬ ॥

  • অনুবাদ : হে রাজন্ , তাই প্রতিটি মানুষের কর্তব্য হচ্ছে সর্বত্র এবং সর্বদা সেই পরমেশ্বর ভগবান শ্রীহরির শ্রবণ , কীর্তন ও স্মরণ করা ।
  • তাৎপর্যঃ- শ্রীল শুকদেব গোস্বামী এই শ্লোক টি শুরু করেছেন তস্মাৎ বা ' অতএব ' শব্দটি দিয়ে , কেননা পূর্ববর্তী শ্লোকে বিশ্লেষণ করেছেন যে ভগবস্তুক্তির পরম মহিমান্বিত পন্থা ব্যতীত জড় জগতের বন্ধন থেকে মুক্ত হওয়ার আর কোন উপায় নেই । ভগবানের ভক্তেরা ভগবল্পক্তির পন্থা অনুশীলন করেন শ্রবণ , কীর্তন , স্মরণ , পাদসেবন , অর্জুন , বন্দন , দাস্য , সখ্য এবং আত্মনিবেদনের দ্বারা । এই ন'টি পন্থার সব কয়টিই প্রামাণিক , এবং তাদের সবকটি , কয়েকটি অথবা কেবল একটি অনুশীলনের ফলে নিষ্ঠাবান ভক্ত আকাঙ্ক্ষিত ফল লাভ করতে পারেন । তবে এই ন'টি পন্থার মধ্যে প্রথমটি , অর্থাৎ শ্রবণ , হচ্ছে ভগবদ্ভক্তি অনুশীলনের সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ । যথাযথভাবে এবং যথেষ্টভাবে শ্রবণ না করলে অন্য পন্থাগুলির অনুশীলনের দ্বারা পারমার্থিক প্রগতি সম্ভব নয় । আর কেবল শ্রবণের জন্যই সমস্ত বৈদিক শাস্ত্রগুলি রয়েছে , যা ব্যাসদেবের মতো ভগবানের শক্ত্যাবেশ অবতার লিপিবদ্ধ করেছেন । ইতিমধ্যেই প্রতিপন্ন হয়েছে যে ভগবান হচ্ছেন সবকিছুরই পরমাত্মা , তাই সর্বদা এবং সর্বত্র তার মহিমা শ্রবণ এবং কীর্তন করা উচিত । সেটি হচ্ছে প্রতিটি মানুষের একটি বিশেষ কর্তব্য । আর মানুষ যখন সর্বব্যাপ্ত পরমেশ্বর ভগবানের মহিমা শ্রবণ করার পন্থা পরিত্যাগ করে , তখন সে মানুষের তৈরি যন্ত্রের দ্বারা প্রচারিত আবর্জনাসদৃশ শব্দ তরঙ্গ শ্রবণের শিকার হয় । যন্ত্র খারাপ নয় , কেননা যন্ত্রের মাধ্যমে ভগবানের কথা শ্রবণ করা যেতে পারে ; কিন্তু অসৎ উদ্দেশ্যে এই সমস্ত যন্ত্রের ব্যবহারের ফলে মানব সমাজ অত্যন্ত দ্রুত গতিতে অধঃপতিত হচ্ছে । এখানে বলা হয়েছে যে ভগবদগীতা , শ্রীমদ্ভাগবত আদি শাস্ত্র গ্রন্থ শ্রবণ করা মানুষের অবশ্য কর্তব্য , কেননা সেই উদ্দেশ্যেই এই সমস্ত শাস্ত্র গ্রন্থ প্রণয়ন করা হয়েছে । মানুষ ব্যতীত অন্য কোন জীবের এই প্রকার বৈদিক শাস্ত্র শ্রবণ করার ক্ষমতা নেই । সমাজকে অধঃপতিত করে যে সমস্ত পাপী , তাদের সৃষ্ট পাপময় শব্দতরঙ্গের শিকার মানব সমাজকে কখনই হতে হয় না যদি তারা বৈদিক শাস্ত্র শ্রবণের পন্থা গ্রহণ করে । শ্রবণের পন্থা দৃঢ় হয় । কীর্তনের মাধ্যমে । যিনি যথার্থ সূত্র থেকে যথাযথভাবে শ্রবণ করেছেন , তিনি সর্বব্যাপ্ত পরমেশ্বর ভগবানের সম্বন্ধে সম্পূর্ণরূপে শ্রদ্ধা পরায়ণ হন এবং তার ফলে তিনি ভগবানের মহিমা কীর্তনে উৎসাহিত হন । রামানুজাচার্য , মধ্বাচার্য , শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু , সরস্বতী ঠাকুর প্রমুখ মহান আচার্যেরা , এমনকি অন্যান্য দেশে মহম্মদ , যিশুখ্রিস্ট এবং অন্য সমস্ত মহাপুরুষেরা সর্বত্র এবং সর্বদা ব্যাপকভাবে ভগবানের মহিমা কীর্তন করেছেন । ভগবান যেহেতু সর্বব্যাপ্ত , তাই সর্বত্র এবং সর্বদা তার মহিমা কীর্তন করা অত্যন্ত প্রয়োজন । ভগবানের মহিমা কীর্তনে স্থান - কাল - পাত্রের বাধ্যবাধকতা থাকা উচিত নয় । একে বলা হয় সনাতন ধর্ম বা ভাগবদ্ধর্ম সনাতন মানে নিত্য , সর্বদা এবং সর্বত্র । ভাগবত মানে হচ্ছে ভগবানের কথা ভগবান সমস্ত সময় এবং সমস্ত স্থানের প্রভু , এবং তাই ভগবানের দিব্য নাম অবশ্যই শ্রোতব্য , কীর্তিতব্য এবং স্মর্তব্য । তার ফলে সারা পৃথিবীর মানুষ যে শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য ব্যাপকভাবে প্রতীক্ষা করছে , সেই শাস্তি এবং সমৃদ্ধির প্রতিষ্ঠা হবে । চ শব্দটি উপরোক্ত ভগবস্তুক্তির অন্য সমস্ত পন্থাগুলিকে ইঙ্গিত করছে ।

    পূরবর্তী শ্লোক দেখুন অথবা পরবর্তী শ্লোক
  • * * * Anupamasite-এ আপনাকে স্বাগতম। আপনার পছন্দমত যে কোন ধরনের লেখা পোস্ট করতে এখানে ক্লিক করুন।   আপনাদের পোস্ট করা লেখাগুলো এই লিংকে আছে, দেখতে এখানে ক্লিক করুন। ধন্যবাদ * * *

    জ্ঞানই শক্তি ! তাই- আগে নিজে জানুন , শেয়ার করে প্রচারের মাধ্যমে অন্যকেও জানতে সাহায্য করুন।