শ্রীকৃষ্ণদ্বৈপায়ন ব্যাস কৃত শ্রীমদ্ভাগবত এর গুরুত্বপূর্ণ শ্লোক ও তাৎপর্য ।

কৃষ্ণকৃপাশ্রীমূর্তি শ্রীল অভয়চরণারবিন্দ ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদ কর্তৃক মূল সংস্কৃত শ্লোক, অনুবাদ এবং বিশদ তাৎপর্যসহ ইংরেজি SRIMAD BHAGAVATAM গ্রন্থের বাংলা অনুবাদ

  • শ্রীমদ্ভাগবত ২য় স্কন্ধ, অধ্যায়-২, (হৃদয়াভ্যন্তরস্থ ভগবান )

    শ্লোক: ৩৭
    পিবন্তি যে ভগবত আত্মনঃ সতাং
    কথামৃতং শ্রবণপুটেষু সম্ভূতম্ ।
    পুনন্তি তে বিষয়বিদূষিতাশয়ং
    ব্রজন্তি তচ্চরণসরোরুহান্তিকম্ ৷৷ ৩৭ ৷৷

  • অনুবাদ : যাঁরা ভক্তদের অত্যন্ত প্রিয় ভগবান শ্রীকৃষ্ণের কথামৃত কর্ণকুহরের দ্বারা পান করেন , তাঁরা বিষয় ভোগে দূষিত অন্তঃকরণকে পবিত্র করেন এবং ভগবানের শ্রীপাদপদ্মের সমীপে গমন করেন ।
  • তাৎপর্যঃ- মানব সমাজের সমস্ত দুঃখ - দুর্দশার কারণ হচ্ছে জড়া প্রকৃতির উপর আধিপত্য বিস্তার করার দূষিত উদ্দেশ্য সাধনের জন্য জীবন যাপন করা । মানব সমাজ যতই ইন্দ্রিয়ের তৃপ্তি সাধনের জন্য জড়া প্রকৃতিকে শোষণ করার চেষ্টা করবে , ততই তা ভগবানের মায়া শক্তির দ্বারা আবদ্ধ হয়ে পড়বে এবং তার ফলে পৃথিবীর দুঃখ - দুর্দশা হ্রাস পাওয়ার পরিবর্তে বৃদ্ধি পেতে থাকবে । ভগবান অন্ন , দুধ , ফল , কাঠ , পাথর , চিনি , রেশম , মণিরত্ন , সূতা , লবণ , জল , শাকসব্জি ইত্যাদি রূপে মানুষের সমস্ত প্রয়োজনগুলি সরবরাহ করছেন । ভগবান সেগুলি যথেষ্ট পরিমাণে সরবরাহ করেছেন , সমগ্র মানব সমাজ তথা ব্রহ্মাণ্ডের প্রতিটি গ্রহের সমস্ত প্রাণীর রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সরবরাহের উৎসটি পূর্ণ , মানুষকে কেবল একটুখানি শক্তি ক্ষয় করে সেগুলি উপযুক্ত প্রণালীর মাধ্যমে প্রাপ্ত হতে হয় । কৃত্রিমভাবে জীবনে সুখ - স্বাচ্ছন্দ্য লাভ করার জন্য বড় বড় কলকারখানা এবং যন্ত্রপাতির কোন প্রয়োজন নেই । কৃত্রিমভাবে অভাবের সৃষ্টি করে জীবনকে কখনও সুখ - স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ করা যায় না , পক্ষান্তরে প্রকৃত সুখের জীবন হচ্ছে উচ্চ চিন্তাধারা সমন্বিত সরল জীবন । মানব সমাজের সর্বোচ্চ চিন্তাধারার উল্লেখ শ্রীল শুকদেব গোস্বামী এখানে করেছেন , যথেষ্টভাবে শ্রীমদ্ভাগবত শ্রবণ করা । এই কলিযুগের মানুষেরা জীবনের প্রকৃত উদ্দেশ্য সম্বন্ধে বিস্তৃত হয়েছে , এবং শ্রীমদ্ভাগবত হচ্ছে সেই প্রকৃত পথ প্রদর্শনকারী আলোকবর্তিকা শ্রীল জীব গোস্বামী এই শ্লোকে উল্লিখিত কথামৃতম শব্দটি সম্বন্ধে বলেছেন যে তা পরমেশ্বর ভগবানের অমৃতময় বাণী সমন্বিত শ্রীমদ্ভাগবতকে ইঙ্গিত করছে । শ্রীমদ্ভাগবতের যথেষ্ট শ্রবণের ফলে জীবনের দূষিত উদ্দেশ্য , অর্থাৎ এই জড় জগতের উপর আধিপত্য করার বাসনা প্রশমিত হবে , এবং সারা পৃথিবীর মানুষ জ্ঞান এবং আনন্দে পরিপূর্ণ এবং শাস্তিময় জীবন যাপন করতে পারবে ।

        ভগবানের শুদ্ধ ভক্তের পক্ষে তার নাম , যশ , গুণ , পরিকর , ইত্যাদি সম্পর্কিত বিষয় যেহেতু নারদ মুনি হনুমানজী , নন্দমহারাজ এবং অন্যান্য বৃন্দাবনবাসী কর্তৃক অনুমোদিত হয়েছে , তাই তা অবশ্যই অপ্রাকৃত এবং হৃদয় ও আত্মার আনন্দদায়ক ।

        শ্রীল শুকদেব গোস্বামী এখানে আশ্বাস দিয়েছেন যে , নিরন্তর শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার বাণী এবং তারপর শ্রীমদ্ভাগবতের বাণী শ্রবণ করার ফলে একটি বিশাল পদ্মসদৃশ গোলোক বৃন্দাবন নামক চিন্ময়ধামে ভগবানের কাছে পৌঁছে তাঁর অপ্রাকৃত প্রেমময়ী সেবায় যুক্ত হওয়া যায় ।

        এইভাবে সরাসরিভাবে ভগবদ্ভক্তির পন্থা অবলম্বন করার ফলে , ভগবানের অপ্রাকৃত কথা যথেষ্টভাবে শ্রবণ করার ফলে সরাসরি জড় কলুষ থেকে মুক্ত হওয়া যায় । তখন আর ভগবানের নির্বিশেষ বিরাট রূপের ধ্যান করার প্রয়োজন হয় না । ভক্তিযোগের অনুশীলনের ফলে অনুশীলনকারী যদি জড় কলুষ থেকে মুক্ত না হয় , তাহলে বুঝতে হবে যে সে হচ্ছে একটি প্রাকৃত বা মিছা ভক্ত । সেই প্রকার ভণ্ডের জড় জগতের বন্ধন থেকে মুক্ত হওয়ার কোন উপায় নেই । ইতি শ্রীমদ্ভাগবতের “ হৃদয়াভ্যন্তরস্থ ভগবান " নামক দ্বিতীয় স্কন্ধের দ্বিতীয় অধ্যায়ের ভক্তিবেদান্ত তাৎপর্য ।

    পূরবর্তী শ্লোক দেখুন অথবা পরবর্তী শ্লোক
  • * * * Anupamasite-এ আপনাকে স্বাগতম। আপনার পছন্দমত যে কোন ধরনের লেখা পোস্ট করতে এখানে ক্লিক করুন।   আপনাদের পোস্ট করা লেখাগুলো এই লিংকে আছে, দেখতে এখানে ক্লিক করুন। ধন্যবাদ * * *

    জ্ঞানই শক্তি ! তাই- আগে নিজে জানুন , শেয়ার করে প্রচারের মাধ্যমে অন্যকেও জানতে সাহায্য করুন।