শ্রীকৃষ্ণদ্বৈপায়ন ব্যাস কৃত শ্রীমদ্ভাগবত এর গুরুত্বপূর্ণ শ্লোক ও তাৎপর্য ।

কৃষ্ণকৃপাশ্রীমূর্তি শ্রীল অভয়চরণারবিন্দ ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদ কর্তৃক মূল সংস্কৃত শ্লোক, অনুবাদ এবং বিশদ তাৎপর্যসহ ইংরেজি SRIMAD BHAGAVATAM গ্রন্থের বাংলা অনুবাদ

  • শ্রীমদ্ভাগবত ২য় স্কন্ধ, অধ্যায়-৩, (শুদ্ধ ভক্তিঃ হৃদয়ের পরিবর্তন )

    শ্লোক: ১
    শ্রীশুক উবাচ
    এবমেতণ্ণিগদিং পৃষ্ঠবান্ যদ্ভবান্ মম ।
    নৃণাং যন্ত্রিয়মাণানাং মনুষ্যেষু মনীষিণাম্ ॥১ ॥

  • অনুবাদ : শ্ৰী শুকদেব গোস্বামী বললেন হে মহারাজ পরীক্ষিৎ , যেভাবে আপনি আমাকে মরণোন্মুখ বুদ্ধিমান মানুষদের কর্তব্য সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করেছেন , সেই অনুসারে আমি আপনাকে উত্তর দিয়েছি ।
  • তাৎপর্যঃ- সারা পৃথিবী জুড়ে মানব সমাজে কোটি কোটি নর - নারী রয়েছে , এবং তাদের প্রায় সকলেই অল্পবুদ্ধিসম্পন্ন , কেননা আত্মার সম্বন্ধে তাদের জ্ঞান অতি অল্প । তাদের প্রায় সকলেরই জীবন সম্বন্ধে একটি ভ্রান্ত ধারণা রয়েছে , কেননা তারা তাদের স্কুল এবং সূক্ষ্ম জড় শরীরকে তাদের স্বরূপ বলে মনে করছে , যদিও বাস্তবে তারা তা নয় । মানব সমাজের বিচারে তারা উচ্চ অথবা নিম্ন স্তরে অবস্থিত হতে পারে , কিন্তু সকলেরই বিশেষভাবে জানা উচিত যে যতক্ষণ পর্যন্ত তারা তাদের দেহ এবং মনের অতীত আত্মা সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা না করছে , ততক্ষণ পর্যন্ত তাদের সমস্ত কার্যকলাপ ব্যর্থ । তাই হাজার হাজার মানুষের মধ্যে কেবল একজন আত্মা সম্বন্ধে প্রশ্ন করতে পারে এবং সেজন্য বেদান্ত - সূত্র , শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা এবং শ্রীমদ্ভাগবত আদি শাস্ত্রগ্রন্থের শরণাগত হতে পারে । কিন্তু এই সমস্ত গ্রন্থ শ্রবণ বা অধ্যয়ন করা সত্ত্বেও তত্ত্বজ্ঞানী সদগুরুর সান্নিধ্যে না আসা পর্যন্ত আত্মার প্রকৃত স্বরূপ যথাযথভাবে হৃদয়ঙ্গম করতে পারে না । লক্ষ লক্ষ মানুষদের মধ্যে কেবল দু - একজন মাত্র তত্ত্বতঃ শ্রীকৃষ্ণকে জানতে পারেন । শ্রীচৈতন্য চরিতামৃতে ( মধ্যলীলা ২০ / ১১২-১২৩ ) উল্লেখ করা হয়েছে—

    মায়ামুগ্ধ জীবের নাহি স্বতঃ কৃষ্ণজ্ঞান ।
    জীবেরে কৃপায় কৈলা কৃষ্ণ বেদ - পুরাণ ।।
    ‘ শাস্ত্র - গুরু - আত্মা'রূপে আপনারে জানান ।
    ‘ কৃষ্ণ মোর প্রভু , ত্রাতা ' — জীবের হয় জ্ঞান ।।

    ব্যাসদেবরূপে অবতীর্ণ হয়ে শ্রীকৃষ্ণ তার অহৈতুকী কৃপার প্রভাবে বৈদিক শাস্ত্রসমূহ দান করেছেন , যাতে বুদ্ধিমান মানুষেরা শ্রীকৃষ্ণের সঙ্গে তাদের হারিয়ে যাওয়া সম্পর্কের পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে পারেন । বুদ্ধিমান মানুষেরাও ভগবানের সঙ্গে তাদের সম্পর্কের কথা প্রায় ভুলে যাচ্ছেন । তাই ভক্তিযোগের পন্থা হচ্ছে সেই হারিয়ে যাওয়া সম্পর্কের পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা । মানব জীবনেই কেবল তা সম্ভব হয় , যা ৮৪,০০,০০০ বিভিন্ন যোনির মধ্যে অত্যন্ত দুর্লভ । তাই বুদ্ধিমান মানুষদের কর্তব্য নিশ্চিতভাবে এই সুযোগের সদ্ব্যবহার করা । সমস্ত মানুষেরাই বুদ্ধিমান নয় , তাই তারা সব সময় মানব জীবনের মহিমা উপলব্ধি করতে পারে না । তাই এই শ্লোকে মনীষিণাম্ , অর্থাৎ চিন্তাশীল শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে । মহারাজ পরীক্ষিতের মতো মনীষিণাম্ব্যক্তিরা পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের শ্রীপাদপদ্মের আশ্রয় গ্রহণ করে ভগবানের দিব্য নাম এবং লীলা রূপ হরিকথামৃত শ্রবণ , কীর্তন ইত্যাদির দ্বারা সর্বতোভাবে ভগবদ্ভক্তির অনুশীলনে যুক্ত হন । বিশেষভাবে এই কার্য মরণোন্মুখ ব্যক্তিদের করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ।

    পূরবর্তী শ্লোক দেখুন অথবা পরবর্তী শ্লোক
  • * * * Anupamasite-এ আপনাকে স্বাগতম। আপনার পছন্দমত যে কোন ধরনের লেখা পোস্ট করতে এখানে ক্লিক করুন।   আপনাদের পোস্ট করা লেখাগুলো এই লিংকে আছে, দেখতে এখানে ক্লিক করুন। ধন্যবাদ * * *

    জ্ঞানই শক্তি ! তাই- আগে নিজে জানুন , শেয়ার করে প্রচারের মাধ্যমে অন্যকেও জানতে সাহায্য করুন।