শ্রীকৃষ্ণদ্বৈপায়ন ব্যাস কৃত শ্রীমদ্ভাগবত এর গুরুত্বপূর্ণ শ্লোক ও তাৎপর্য ।

কৃষ্ণকৃপাশ্রীমূর্তি শ্রীল অভয়চরণারবিন্দ ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদ কর্তৃক মূল সংস্কৃত শ্লোক, অনুবাদ এবং বিশদ তাৎপর্যসহ ইংরেজি SRIMAD BHAGAVATAM গ্রন্থের বাংলা অনুবাদ

  • শ্রীমদ্ভাগবত ২য় স্কন্ধ, অধ্যায়-২, (হৃদয়াভ্যন্তরস্থ ভগবান )

    শ্লোক: ৭
    কস্তাং ত্বনাদৃত্য পরানুচিন্তা-
    মৃতে পশূনসতীং নাম কুৰ্যাৎ ।
    পশ্যঞ্জনং পতিতং বৈতরণ্যাং
    স্বকর্মজান্ পরিতাপাঞ্জুষাণম্ ॥৭ ॥

  • অনুবাদ : ঘোর জড়বাদী ছাড়া আর কে পারমার্থিক বিষয়ে চিন্তা না করে অনিত্য বিষয়ের চিন্তা করবে ? দুঃখ - দুর্দশার নদী বৈতরণীতে পতিত হয়ে তাকে স্বীয় কর্মজাত ত্রিতাপ ভোগ করতে হয় , তা দেখা সত্ত্বেও পশু ছাড়া আর কোন্ ব্যক্তির বিষয়ে স্পৃহা হবে ?
  • তাৎপর্যঃ- বেদে বলা হয়েছে , যে সমস্ত মানুষ ভগবানকে বাদ দিয়ে অন্য দেবতাদের প্রতি আসক্ত হয় তারা ঠিক পশুর মতো যারা এক পশুপালককে অনুসরণ করছে যে তাদের কসাইখানায় নিয়ে যাচ্ছে । এই সমস্ত জড়বাদীরাও পশুদের মতো জানে না যে পরমেশ্বর ভগবানের অপ্রাকৃত চিন্তা অবহেলা করার ফলে তারা ভ্রান্ত পথে পরিচালিত হচ্ছে । চিন্তাহীন হয়ে কেউই থাকতে পারে না । একটি প্রবাদ আছে যে , “ অলস মস্তিষ্ক শয়তানের কারখানা ” , কেন না যারা ঠিকভাবে চিন্তা করতে পারে না তারা এমন বিষয়ের চিন্তা করবে যার ফলে তাদের সর্বনাশ হবে । জড়বাদীরা সর্বদাই কোন না কোন দেবতাদের পূজা করে যারা পরমেশ্বর ভগবানের তুলনায় নিতান্তই নিকৃষ্ট , যদিও শ্রীমদ্ভগবদ্গীতায় ( ৭/২০ ) এই ধরনের পূজার নিন্দা করা হয়েছে । মানুষ যখন জড় লাভের আশায় মোহাচ্ছন্ন হয়ে থাকে , তখন সে বিশেষ কোন লাভের জন্য বিভিন্ন দেবতাদের কাছে আবেদন করে , প্রকৃতপক্ষে যদিও তা ভ্রমাত্মক এবং অনিত্য । দিব্যজ্ঞানপ্রাপ্ত পরমার্থী কখনো এই প্রকার মায়িক বিষয়ের দ্বারা মোহিত হন না ; তাই তিনি সর্বদাই ব্রহ্ম , পরমাত্মা এবং ভগবান উপলব্ধির বিভিন্ন স্তরে পরমেশ্বরের অপ্রাকৃত চিন্তায় মগ্ন থাকেন । পূর্ববর্তী শ্লোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে , যে পরমাত্মার চিন্তা করা উচিত , যা নির্বিশেষ ব্রহ্ম চিন্তার থেকে এক স্তর ঊর্ধ্বে , এবং সেই সম্বন্ধে বলা হয়েছে । যে পরমেশ্বর ভগবানের বিরাট রূপের ধারণার মাধ্যমে এই ধরনের পরমাত্মা সম্বন্ধীয় চিন্তা করা যেতে পারে ।

       বুদ্ধিমান ব্যক্তি চুরাশি লক্ষ বিভিন্ন যোনিতে ভ্রাম্যমাণ জীবদের তো বটেই , বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষদের অবস্থাও যথাযথভাবে দর্শন করতে পারেন । বৈদিক শাস্ত্রে বর্ণনা করা হয়েছে যে , পাপীদের দণ্ডদাতা যমরাজের আলয়ের প্রবেশদ্বারে বৈতরণী নামক একটি নিত্য প্রবাহিতা নদী রয়েছে । পাপের ফলস্বরূপ প্রাপ্ত দণ্ড ভোগ করার পর পাপী তার দণ্ডিত এই পূর্বকৃত কর্ম অনুসারে বিশেষ যোনিতে জন্মগ্রহণ করে । যমরাজ কর্তৃক দণ্ডিত এই প্রকার জীবেদের বিভিন্ন প্রকার বদ্ধ জীবনে দেখা যায় । তাদের কেউ স্বর্গলোকে রয়েছে , আবার কেউ বা নরকে রয়েছে । তাদের কেউ ব্রাহ্মণ , আর অন্য কেউ কৃপণ । কিন্তু এই জড় জগতে কেউই সুখী নয় , এবং তারা সকলেই হয় প্রথম শ্রেণীর , দ্বিতীয় শ্রেণীর অথবা তৃতীয় শ্রেণীর কয়েদী , যারা তাদের পূর্বকৃত কর্ম অনুসারে জড় জগৎ রূপ কারাগারে নানা প্রকার দণ্ডভোগ করছে । ভগবান জীবের দুঃখ - দুর্দশার সমস্ত পরিস্থিতিতে নিরপেক্ষ থাকেন , কিন্তু কেউ যখন তার শ্রীপাদপদ্মের আশ্রয় গ্রহণ করে , ভগবান তখন তাকে যথাযথভাবে রক্ষা করেন এবং পুনরায় তার ধামে তাকে ফিরিয়ে নিয়ে যান ।

    পূরবর্তী শ্লোক দেখুন অথবা পরবর্তী শ্লোক
  • * * * Anupamasite-এ আপনাকে স্বাগতম। আপনার পছন্দমত যে কোন ধরনের লেখা পোস্ট করতে এখানে ক্লিক করুন।   আপনাদের পোস্ট করা লেখাগুলো এই লিংকে আছে, দেখতে এখানে ক্লিক করুন। ধন্যবাদ * * *

    জ্ঞানই শক্তি ! তাই- আগে নিজে জানুন , শেয়ার করে প্রচারের মাধ্যমে অন্যকেও জানতে সাহায্য করুন।