শ্রীমদ্ভগবদগীতা ১৩শ অধ্যায়:- ক্ষেত্রক্ষেত্রজ্ঞবিভাগযোগ-এর সার সংক্ষেপ:-
লেখক-
শ্রী স্বপন কুমার রায়
মহা ব্যবস্থাপক, বাংলাদেশ ব্যাংক৷
সাধারণ সম্পাদক, শ্রী শ্রী গীতাসংঘ, মতিঝিল শাখা, ঢাকা৷
--------------------------------------
পুরুষ ও প্রকৃতি, দেহ ও আত্মা, জ্ঞান ও জ্ঞেয় ইত্যাদি তত্ত্বের সম্যক ধারণা ব্যতিত পরমেশ্বরের সমগ্র স্বরূপ জানা যায় না। তাই অধ্যায়ের প্রথম শ্লোকেই অর্জুন ভগবান শ্রীকৃষ্ণ সমীপে জানতে চাইলেন- প্রকৃতি ও পুরুষ, ক্ষেত্র ও ক্ষেত্রজ্ঞ এবং জ্ঞান ও জ্ঞেয় বস্তু কী – সে সম্পর্কে। তদুত্তোরে শ্রীকৃষ্ণ বললেন, ভগবানই পুরুষ এবং তাঁর শক্তিই প্রকৃতি নামে খ্যাত। আর এই দেহ হচ্ছে ক্ষেত্র এবং এদেহ সম্পর্কে যিনি সম্যকরূপে জানেন তিনিই ক্ষেত্রজ্ঞ। এখানে প্রশ্ন থাকতে পারে যে, এ দেহ সম্পর্কে একজন দেহধারীও সম্যকরূপে জানতে পারেন। হ্যা,
কোন দেহধারী দেহ সম্পর্কে সম্যকভাবে জ্ঞাত হলে তিনিও ক্ষেত্রজ্ঞ হতে পারেন। তবে বিষয়টি হচ্ছে যে একজন দেহধারী হয়তো তার নিজ দেহ সম্পর্কে ভাল জানতে পারেন, কিন্তু নিখিল বিশ্বের
সকল দেহের সম্যক জ্ঞান
একমাত্র পরমেশ্বর ছাড়া অন্য কারো থাকা সম্ভব নয়। তাই পরমেশ্বর ভগবানই প্রকৃত ক্ষেত্রজ্ঞ।
অতপর ভগবান শ্রীকৃষ্ণ জ্ঞান ওজ্ঞেয় সম্পর্কে বললেন, প্রকৃতি ও পুরুষের সংযোগে থেকেই জীবের উৎপত্তি এবং এই জগৎ-জীবের বাইরে এবং ভেতরেও অন্তরআত্মা রূপে তিনি বিরাজিত। কাজেই সেই পুরুষ ও প্রকৃতি তথা ক্ষেত্র ও ক্ষেত্রজ্ঞ সম্পর্কিত যে জ্ঞান তাকেই জ্ঞান বলে এবং প্রকৃতির অন্তরাত্মারূপী যে ব্রহ্মসত্ত্বা- তাই হচ্ছে জ্ঞাতব্য বিষয় বা জ্ঞেয়। এই প্রকৃতি ও পুরুষ উভয়ই অনাদি এবং তাদের বিকার ও গুণসমূহ প্রকৃতি হতেই উৎপন্ন। জড়া প্রকৃতিতে অবস্থিত হয়ে জীব প্রকৃতিজাত গুণসমূহ ভোগ করে। প্রকৃতির গুণের সঙ্গবশতঃই তার সৎ ও অসৎ যোনিসমূহে জন্ম হয়ে থাকে। এই শরীরে আর একজন আছেন, যিনি হচ্ছেন উপদ্রষ্টা, অনুমন্তা, ভর্তা, ভোক্তা, মহেশ্বর এবং তাকে পরমাত্মাও বলা হয়। যিনি এই পরমাত্মাকে এবং জড়া প্রকৃতি সম্পর্কে সম্যকরূপে জ্ঞাত হন, তিনিই জন্ম-মৃত্যু অতিক্রম করে চিরমুক্তি লাভ করেন।
জয় শ্রীকৃষ্ণ ।।
শ্রীমদ্ভগবদগীতা ১৪শ অধ্যায়: গুণত্রয়বিভাগযোগ- এর সার সংক্ষেপ দেখুন
Comments