সনাতন ধর্মের সুনির্বাচিত বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ কিছু গ্রন্থ ।

আপনার মোবাইলে ভালোভাবে দেখার জন্য মোবাইলটি রোটেন করুন ( ঘুরান) ।

  • প্রকৃতির নিয়ম

    কর্মের অবশ্যম্ভাবী ফল

    কৃষ্ণকৃপাশ্রীমূর্তি শ্রীল অভয়চরণারবিন্দ ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদ কর্তৃক রচিত ইংরেজী The Laws of Nature : An Infallible Justice গ্রন্থের বঙ্গানুবাদ
  • ভূমিকা ,    ১ম অধ্যায়, ভগবান এবং কর্মনীতি => কর্মবন্ধন ছিন্ন করার পন্থা ,   ভগবান শ্রীকৃষ্ণই সব কিছুর নিয়ন্তা এবং প্রভু ,    ভগবান এবং তাঁর শক্তিরাশি ,   ভগবান শ্রীকৃষ্ণের মর্যাদা ,    ভগবান শ্রীকৃষ্ণ —আপাতদৃষ্টিতে পরস্পর বিরোধী তত্ত্ব ,   ভগবান এবং তাঁর শক্তি — এক এবং ভিন্নও ,    ভগবান শ্রীকৃষ্ণ পরম শুদ্ধ ,   শরীরের পরিসীমার ওপরে ,    পারমার্থিক এবং জড়জাগতিক শিক্ষা ,   জ্ঞান বনাম অজ্ঞানতা ,    শ্রীভগবানকে জানার পন্থা ,   ব্রহ্মজ্যোতির ঊর্ধ্বে । ,   দ্বিতীয় অধ্যায় , খারাপ কর্ম ,   তৃতীয় অধ্যায় , শান্তির সূত্র ,  
  • ভগবান এবং তাঁর শক্তিরাশি


          ঈশোপনিষদে ব্যাখ্যা করা হয়েছে যে , জীব বা নির্জীব , যে কোনও সত্তাকেই আমরা দেখি না কেন , সবাই পরমেশ্বর ভগবানের নিয়ন্ত্রণাধীন । ভগবান শ্রীকৃষ্ণ ভগবদ্গীতায় ( ৯/১০ ) একই কথা বলেছেন যে তাঁরই শক্তির মাধ্যমে সব কিছু নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে । বিষ্ণুপুরাণে সুনিশ্চিতভাবে বলা হয়েছে । যে – একদেশঙ্কিতস্যামেজোৎস্না বিস্তারিণী যথা — অর্থাৎ একই জায়গার অবস্থিত অগ্নির দ্বারা যেমন চারদিকে উত্তাপ ও আলো বিচ্ছুরিত হয় , তেমনই পরমেশ্বর ভগবানের পরম শক্তির দ্বারাই জগতের সবকিছু সৃষ্টি হচ্ছে ।

          উদাহরণস্বরূপ বলা যায় , সূর্য এক জায়গাতেই রয়েছে , কিন্তু সমগ্র বিশ্বব্রহ্মাণ্ডেই তার তাপ ও আলো বিতরিত হচ্ছে । ঠিক তেমনই পরমেশ্বর ভগবান তাঁর জাগতিক ও আধ্যাত্মিক শক্তির মাধ্যমেই সব কিছুর সৃষ্টি করে চলেছেন ।

          এই আধ্যাত্মিক শক্তি সাময়িকভাবে জড় জগতের মধ্যে অবস্থান করছে । কিন্তু এটি জড়া শক্তির দ্বারা পরিবৃত হয়ে রয়েছে । যেমন , সূর্য প্রতিনিয়ত আকাশে রয়েছে । কেউই সূর্যকে তার কিরণ বিতরণ থেকে রোধ করতে পারে না । কিন্তু কখনও কখনও সূর্য মেঘ দ্বারা পরিবৃত হয়ে যায় । যখন এটি হয় , সেইসময় সেই নির্দিষ্ট অংশে সাময়িকভাবে সূর্যকিরণ আসতে পারে না । কিন্তু সূর্যের এই পরিবৃত অবস্থা সাময়িক । মেঘ সমস্ত সূর্যকিরণকে একসাথে পরিবৃত করতে পারে না । অর্থাৎ সূর্যের অতি ক্ষুদ্র অংশই সাময়িকভাবে দেখ দ্বারা আবৃত হয় । একই ভাবে এই জড় জগৎ আধ্যাত্মিক জগতের অতি ক্ষুদ্র অংশ যা জড়া শক্তি দ্বারা সাময়িকভাবে আবৃত হয়ে রয়েছে ।

          আর জড়া শক্তি কি ? জড়া শক্তি আধ্যাত্মিক শক্তিরই আর এক রূপ । যখন আধ্যাত্মিক ক্রিয়া অনুপস্থিত থাকে তখনই জড়া শক্তির প্রকাশ ঘটে । এখানেও সূর্য ও মেঘের সেই উপমা দেওয়া যায় । মেঘ প্রকৃতপক্ষে কি ? এটি তো সূর্যকিরণেরই প্রতিক্রিয়া মাত্র । সূর্যকিরণ সমুদ্রের জলকে বাষ্পীভূত করে । সেই বাষ্পই মেঘের আকার নেয় । সুতরাং সূর্যকিরণের ফলেই মেঘ সৃষ্টি হয় । একইভাবে , পরমেশ্বর ভগবানই জড়া শক্তির কারণ । আর সেই জড়া শক্তির আবরণের ফলেই আমরা তাঁকে দর্শন করতে পারি না ।

          এইভাবে জড়জগতে দুই ধরনের শক্তি বিরাজ করছে : জড়া শক্তি ও পরা শক্তি । জড়া শক্তি আটটি জড় জাগতিক উপাদানে গঠিত । সেগুলি হল মাটি , , আগুন , বাতাস , আকাশ , বুদ্ধি , মন ও অহংকার । এইগুলি স্থূল অবস্থা থেকে ক্রমে সূক্ষ্ম অবস্থায় বোঝান হয়েছে । যেমন জল পৃথিবীর থেকে সূক্ষ্ম , আবার আগুন জলের থেকে সূক্ষ্ম , ইত্যাদি ।

          সুতরাং দেখা গেল উপাদান যতই মুগ্ধ হয় , ততই তার ক্ষমতা বাড়তে থাকে । যেমন ধরুন , মনের গতি নিয়ে আপনি মুহূর্তের মধ্যে হাজার হাজার মাইল অতিক্রম করতে পারবেন । কিন্তু মনের থেকে আরও বেশী শক্তিশালী হল বুদ্ধি আর বুদ্ধির থেকে আরও বেশী শক্তিসম্পন্ন পরা শক্তি । পরা শক্তি কি ? ভগবদ্গীতায় ( ৭/৫ ) শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন , অপরেয়মিতত্ত্বন্যার প্রকৃতিং বিদ্ধি মে পরাম্ জীবক্তৃতাম্ । অর্থাৎ নিকৃষ্ট জড়া শক্তি ছাড়াও আমার আর একটি উৎকৃষ্ট শক্তি রয়েছে । সেটি হল পরা শক্তি । এর থেকে সমস্ত জীব নিঃসৃত হচ্ছে ।

          আমরা জীবগণও শক্তি , কিন্তু উৎকৃষ্ট শক্তি । কিভাবে আমরা উৎকৃষ্ট ? কারণ আমরা জড়া শক্তিকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারি । জড় বস্তুর নিজস্ব কোনও শক্তিই নেই । যেমন বিশাল বিশাল বিমানগুলো সুন্দরভাবে আকাশে ওড়ে , কিন্তু পরা শক্তি -বিমানচালক সেখানে থাকে । বিমানচালক না থাকলে বিমান কিছুতেই উড়তে পারে না । যদি না পরা শক্তির অতি ক্ষুদ্র অংশ , বিমানচালক বিমানকে স্পর্শ না করে তবে হাজার হাজার বছর ধরে জেট প্লেন বিমানবন্দরে বসে থাকবে । তাহলে ভগবানকে উপলব্ধি করতে অসুবিধা কোথায় ? যেখানে এত বিশাল বিশাল যন্ত্রপাতি পরা শক্তি তথা কোনও জীবের স্পর্শ ছাড়া নড়তেই পারে না , সেখানে কিভাবে আপনি তর্ক করেন যে এত সব জড়া শক্তিরাশি কোন রকম নিয়ন্ত্রণ ছাড়া আপনা আপনিই কাজ করছে ? নির্বোধরাই এরূপ তর্ক করে । তাই যারা বুঝতে পারে না যে , এই জড়া প্রকৃতিকে কীভাবে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ নিয়ন্ত্রণ করে চলেছেন তারা অল্পবুদ্ধি সম্পন্ন । আর যেসব ভগবৎ বিদ্বেষী মানুষ মনে করে যে জগৎ আপনা আপনিই চলছে তারা নির্বোধ ছাড়া আর কিছুই নয় ।

          ঈশোপনিষদে বলা হয়েছে , “ জগতের স্থাবর এবং জঙ্গম অর্থাৎ অচেতন এবং চেতন সত্তা , সবকিছুই পরম পুরুষোত্তম ভগবানের সৃষ্টি ও তাঁর নিয়ন্ত্রণাধীন । তিনিই পরম নিয়ন্তা ও সর্বময় কর্তা । আমাদের বাস্তবিক অভিজ্ঞতায় দেখি যে কোনও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান যিনি নিয়ন্ত্রণ করেন তিনিই মালিক । ঠিক তেমনই পরমেশ্বর ভগবান যেহেতু এই জড়জগতকে নিয়ন্ত্রণ করছেন , তাই তিনিই এর অধিপতি । এর অর্থ হল যে যতটা সম্ভব সবকিছু ভগবানের সেবায় নিয়োজিত করতে হবে ।

          ১৭ তাহলে আমাদের নিজেদের প্রয়োজন মিটবে কিভাবে ? এই বিষয়ে ঈশোপনিষদে ব্যাখ্যা করা হয়েছে , “ একজন ততটুকুই প্রয়োজন মতন গ্রহণ করবে যতটুকু তার জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে , এবং অন্যের জন্য বরাদ্দ কোন কিছুই গ্রহণ করা উচিত নয় । " কৃষ্ণভাবনামৃত বলতে বোঝায় এমন একটি ভাবধারা , যার অনুশীলনের মাধ্যমে প্রত্যেকটি বিষয়কে উপলব্ধি করা যায় । সুতরাং যদি আমরা এই মূলনীতিগুলো বুঝতে পারি তবেই আমরা কৃষ্ণভাবনামৃত আস্বাদনে সক্ষম হব ।

    এর পরবর্তী পৃষ্ঠা

  • * * * Anupamasite-এ আপনাকে স্বাগতম। আপনার পছন্দমত যে কোন ধরনের লেখা পোস্ট করতে এখানে ক্লিক করুন।   আপনাদের পোস্ট করা লেখাগুলো এই লিংকে আছে, দেখতে এখানে ক্লিক করুন। ধন্যবাদ * * *

    জ্ঞানই শক্তি ! তাই- আগে নিজে জানুন , শেয়ার করে প্রচারের মাধ্যমে অন্যকেও জানতে সাহায্য করুন।