সনাতন ধর্মের সুনির্বাচিত বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ কিছু গ্রন্থ ।

আপনার মোবাইলে ভালোভাবে দেখার জন্য মোবাইলটি রোটেন করুন ( ঘুরান) ।

  • প্রকৃতির নিয়ম

    কর্মের অবশ্যম্ভাবী ফল

    কৃষ্ণকৃপাশ্রীমূর্তি শ্রীল অভয়চরণারবিন্দ ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদ কর্তৃক রচিত ইংরেজী The Laws of Nature : An Infallible Justice গ্রন্থের বঙ্গানুবাদ
  • ভূমিকা ,    ১ম অধ্যায়, ভগবান এবং কর্মনীতি => কর্মবন্ধন ছিন্ন করার পন্থা ,   ভগবান শ্রীকৃষ্ণই সব কিছুর নিয়ন্তা এবং প্রভু ,    ভগবান এবং তাঁর শক্তিরাশি ,   ভগবান শ্রীকৃষ্ণের মর্যাদা ,    ভগবান শ্রীকৃষ্ণ —আপাতদৃষ্টিতে পরস্পর বিরোধী তত্ত্ব ,   ভগবান এবং তাঁর শক্তি — এক এবং ভিন্নও ,    ভগবান শ্রীকৃষ্ণ পরম শুদ্ধ ,   শরীরের পরিসীমার ওপরে ,    পারমার্থিক এবং জড়জাগতিক শিক্ষা ,   জ্ঞান বনাম অজ্ঞানতা ,    শ্রীভগবানকে জানার পন্থা ,   ব্রহ্মজ্যোতির ঊর্ধ্বে । ,   দ্বিতীয় অধ্যায় , খারাপ কর্ম ,   তৃতীয় অধ্যায় , শান্তির সূত্র ,  
  • তৃতীয় অধ্যায়

    শান্তির সূত্র


          প্রকৃতির বিধিবিধানগুলি সংযুক্তভাবে অথবা পৃথকভাবে কাজ করে থাকে । নিম্নলিখিত সংক্ষিপ্ত অথচ দৃঢ় বক্তব্যের মাধ্যমে শ্রীল প্রভুপাদ ব্যাখ্যা করেছেন যে , বর্তমান সমাজের সমষ্টিগত কর্মপ্রচেষ্টার জালে জড়িয়ে আমরা যেভাবে প্রতিহিংসা - পরায়ণ সর্বনাশের দিকে এগিয়ে চলেছি , তার থেকে যদি আমরা বেরিয়ে আসতে চাই — সমষ্টিগতভাবে অথবা ব্যক্তিগতভাবে যদি আমরা শান্তি লাভ করতে চাই – তাহলে বিশেষ গুরুত্ব সহকারে আমাদের কৃষ্ণভাবনামৃত অনুশীলন ও প্রচার করতেই হবে ।

          আধুনিক সভ্য সমাজে মানুষের মস্ত বড় দোষ হল যে তারা অন্যের সম্পত্তিকে নিজের দখলে আনার চেষ্টা করে যেন সেটা তাদের নিজের সম্পত্তি । যার ফলে প্রকৃতির বিধিবিধানগুলোর ওপর অযথা বাধা বিপত্তির সৃষ্টি হয় । এই সব বিধিবিধানগুলো খুবই কঠিন । কোনও জীবই এগুলোকে লঙ্ঘন করতে পারে না । একমাত্র যারা কৃষ্ণভক্ত তারাই কেবল এই কঠোর বিধিবিধানগুলোকে অতিক্রম করতে পারে । এইভাবে তারা পৃথিবীতে সুখী হন ও শান্তি ভোগ করেন ।

          যেমন যেকোনও রাষ্ট্রে কিছু আইন থাকে যেগুলো রাষ্ট্রকে সুরক্ষিত রাখে , তেমনি বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের রাষ্ট্রব্যবস্থায় – এই পৃথিবীও যার একটি নগণ্য ক্ষুদ্র অংশ , সেই রাষ্ট্রব্যবস্থাও প্রকৃতির বিধিবিধান দিয়ে সুরক্ষিত । এই জড়া প্রকৃতিও ভগবানের বিভিন্ন শক্তিরাশির একটি অংশমাত্র , যিনি সব কিছুরই পরম অধিকর্তা । সেই কারণে এই পৃথিবীও ভগবানেরই সম্পত্তি । কিন্তু জীবগণ , বিশেষত তথাকথিত সভ্য - মানুষজাতি , ভগবানের সমস্ত সম্পত্তিকে নিজেদের বলে মনে করে । ফলে তা নিজেদের আয়ত্তে নিতে চায় । কিন্তু আপনি যদি প্রকৃত শান্তি চান , তবে নিজের মন থেকে সেইসাথে সমগ্র পৃথিবী থেকে আপনাকে এই মালিকানার ভ্রান্ত ধারণা মুছে ফেলতে হবে । কারণ পৃথিবীর সকল সম্পদরাশির ওপর মালিকানা নিয়ে মানবজাতির এই ভ্রান্ত ধারণাই এই জগতে শান্তি স্থাপনের ক্ষেত্রে সব রকমের অসুবিধার জন্য আংশিক বা পরিপূর্ণভাবে দায়ী ।

          তথাকথিত সভ্য মানুষ হিসাবে বিবেচিত নির্বোধ মানুষরাই ভগবানের সমস্ত সম্পদের ওপর নিজেদের মালিকানা প্রতিষ্ঠিত করার দাবি করতে শুরু করেছে , কারণ তারা ভগবৎ - জ্ঞানশূন্য । ভগবৎ - জ্ঞানশূন্য সমাজে কেউ কখনও সুখী হতে পারে না ও শান্তিতে জীবন যাপন করতে পারে না । শ্রীমদ্ভগবদ্গীতায় ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন যে , তিনিই সকল জীবের সমস্ত রকম কার্যকলাপের যথার্থ ফলভোক্তা , তিনিই সমস্ত বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের পরমেশ্বর শ্রীভগবান , এবং তিনিই সকল জীবের শুভাকাঙ্ক্ষী বন্ধু । যখন সমস্ত মানুষ জানবে যে পৃথিবীতে শান্তি রক্ষার এটিই একমাত্র তত্ত্ব , তক্ষুণি জগতে শান্তি বিরাজ করতে থাকবে ।

          তাই , প্রকৃতই যদি কেউ শান্তি চায় , তাহলে তাকে কৃষ্ণভাবনামৃত আস্বাদনের শুদ্ধ চেতনায় নিজের চেতনাকে নিয়ে আসতে হবে এবং সেইসাথে এককভাবে অথবা দলে দলে ভগবানের পবিত্র নাম জপ অভ্যাসের সহজ সরল পন্থাটি মেনে চলতে হবে । পৃথিবীতে শান্তি স্থাপনের এটিই একমাত্র ও সর্বজন অনুমোদিত পন্থা । সেই কারণেই বলা হয় প্রত্যেকে হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে / হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে - এই মহামন্ত্রটি জপের মাধ্যমে কৃষ্ণভাবনাময় হয়ে উঠুন ।

          এটিই বাস্তবসম্মত , সহজ ও ভক্তি উৎপাদক পদ্ধতি । পাঁচশ বছর পূর্বে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু এই মূলনীতিটি ভারতবর্ষে প্রথম প্রবর্তন করেছিলেন , বর্তমানে এটি সমগ্র বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে । উপরিউক্ত পদ্ধতিতে জপ অনুশীলন করলে ও সেই সঙ্গে ভগবদ্গীতা যথাযথ গ্রন্থখানি প্রতিদিন একটু একটু করে পাঠ করলে ভগবানের সাথে আমাদের লুপ্ত সম্বন্ধ পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হবে । তার ফলেই অচিরে জগৎব্যাপী শান্তি ও সমৃদ্ধি প্রতিষ্ঠিত হবে ।
  • * * * Anupamasite-এ আপনাকে স্বাগতম। আপনার পছন্দমত যে কোন ধরনের লেখা পোস্ট করতে এখানে ক্লিক করুন।   আপনাদের পোস্ট করা লেখাগুলো এই লিংকে আছে, দেখতে এখানে ক্লিক করুন। ধন্যবাদ * * *

    জ্ঞানই শক্তি ! তাই- আগে নিজে জানুন , শেয়ার করে প্রচারের মাধ্যমে অন্যকেও জানতে সাহায্য করুন।